ভূমিকা : ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ১৮৮৫ সালে ভারতীয়দের রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ভারতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু এটা প্রকৃতপক্ষে বৃহৎ ভারতবাসীর পক্ষে কাজ করতে পারেনি, কারণ মূলত এটি ছিল হিন্দু সংগঠন। এমন অবস্থায় ভারতীয় মুসলমানরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে একটি নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা করতে থাকে। তারই ফলশ্রুতিতে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনের অধিবেশন বসে সম্মেলন শেষে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ প্রস্তাবিত রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ১৯০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের জন্ম হয় ।
→ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য : ১৯০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মুসলিম লীগ গঠন করার পর এ সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক হন নবাব মুহসিন উল মূলক ও নবাব ভিখার উল- মূলক । ৬০ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি কার্যনির্বাহি কমিটি গঠন করা হয় গঠনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য এ কমিটির কয়েকজন সদস্যের অপছন্দের কারণে সংঘ শব্দটি পরিত্যাগ করে "All India Muslim League করা হয়। এর সদস্যদপ্তর স্থাপন করা হয় চিন্তিত লক্ষ্মৌতে। এতে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকে নিন্দা করা হয়। ংগ্রেসের মুসলিম লীগের গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয় ১৯০৮ সালের আলীগড় অধিবেশনে। একই বছর সৈয়দ আমির আলীর অন্যান্য | সভাপতিত্বে এর শাখা গঠিত হয়। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগের অধিবেশনে যোগদান করেন ।
চীকালে ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম লীগের যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের নে এর কথা বলা হয় তা ছিল নিম্নরূপ:
১. মুসলমানদের অধিকার ও স্বার্থরক্ষা : মুসলিম লীগের সূচনা অধিবেশনে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থরক্ষা করা এবং মুসলমানদের সকল দাবি দাওয়া সরকারের কাছে উপস্থাপন করার ব্যবস্থা করা হয়।
২. ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ : ১৯০৬ সালের মুসলিম লীগের প্রথম অধিবেশনে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতীয় মুসলমানদের আনুগত্যের সুনিশ্চিত ব্যবস্থা করা হয়। যে কোনো ত্বশাসন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকারের মুসলমানদের সম্পর্কে কোনো ভুল ধারণা জন্মালে তা দূর করার ব্যবস্থা করা হয়। কারণ তারা মত তাপূর্ণ | প্রকাশ করেন যে, সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ না করলে নিজেদের দাবি আদায় করা সহজ হবে না ।
নৈতিক ৩. ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় : অন্য কোনো সম্প্রদায়ের সাথে যাতে মুসলমাদের বিদ্বেষ না দেখা দেয় সে ব্যবস্থা মুসলিম লীগের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ঘোষণার সময় বলা হয়।
এগুলো ছাড়া মুসলিম লীগের লক্ষ্যে আরো বলা হয় যে, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মুসলমানদের সংখ্যানুপাতে নিয়োগ, হাইকোর্ট ও অন্যান্য আদালতে মুসলমান বিচারপতি নিয়োগদান, বঙ্গভঙ্গ রদ না করা এবং মুসলমানদের পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা দাবি ইত্যাদি ।
এছাড়া করাচিতে মুসলিম লীগের অধিবেশনে সিমলা ডেপুটেশনের দাবিসমূহ বাস্তবায়নের উপর জোর দিয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
(ক) সরকারি কার্যে মুসলমানদের সংখ্যা এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের সংখ্যার মধ্যকার যে তারতম্য তা দূর করে মুসলমানদের প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা ।
(খ) মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের দাবি এবং ভারতের বিভিন্ন প্রাদেশিক হাইকোর্ট ও চিফ কোর্টে মুসলমান বিচারপতি বস্থায় নিয়োগ করা।
(গ) বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট, সিনেট এবং শিক্ষা বিষয়ক কে। কমিটিগুলোকে মুসলমান প্রতিনিধি নিয়োগ করে শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলমান সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।
এ সকল ভাষ্য ও উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মুসলিম লের লীগ ক্রমান্বয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থার স্বার্থে জড়িয়ে পড়ে
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, মুসলিম লীগ গঠন মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও দাবি দাওয়া প্রকাশে যুগ্ম | গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণে এবং উল- ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় মুসলিম লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। মুসলিম লীগ মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে ।